নয়াদিল্লি: ২০২৫ সালে ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগজনক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘সাউথ এশিয়ান জাস্টিস কাউন্সিল’ (SAJC)-এর ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে অন্তত ৫০ জন মুসলিম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
SAJC-এর তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ২৩ জন ভারতীয় পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী বা অন্যান্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। বাকি ২৭ জন নিহত হয়েছেন হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থী গোষ্ঠীর সদস্যদের হাতে।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে, যা মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এছাড়া, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অব্যাহত সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের চাপে পড়ে অন্তত দুইজন মুসলিম আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্ডিয়া পারসিকিউশন ট্র্যাকারের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে:
- ভুয়া এনকাউন্টার ও পুলিশি হেফাজত: পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু।
- গণপিটুনি (Mob Lynching): গো-রক্ষা বা ধর্মীয় বিদ্বেষের নামে উন্মত্ত জনতার হামলা।
- বিদ্বেষমূলক অপরাধ: উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করে আক্রমণ।
সাউথ এশিয়ান জাস্টিস কাউন্সিল তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিন দিন আরও সংকুচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতার অভাব এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের শেষে ভারতের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোকে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিচারবহির্ভূত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।



