দামেস্ক, সিরিয়া: যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন এবং মানবিক সহায়তার জন্য ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য প্রায় ৬২০ মিলিয়ন ইউরো (৭২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে এক ঐতিহাসিক সফরে গিয়ে এই ঘোষণা দেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে এটিই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো শীর্ষ নেতার প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর। উরসুলা ফন ডার লায়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।

এই ৬২০ মিলিয়ন ইউরোর তহবিলটি মূলত তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে ব্যয় করা হবে: ১. মানবিক সহায়তা: যুদ্ধোত্তর জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা। ২. প্রাথমিক পুনরুদ্ধার (Early Recovery): বিদ্যুৎ, পানি এবং স্যানিটেশন অবকাঠামো মেরামত। ৩. দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।

ইইউ প্রধান ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইউরোপ এখন একটি “নতুন অধ্যায়” শুরু করতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই একটি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত বছর আসাদ সরকারের পতনের পর ইইউ সিরিয়ার ওপর থেকে সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। বর্তমানে সিরিয়াকে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (EIB) থেকে ঋণ সুবিধা প্রদান এবং ইউরোপীয় বাজারে সিরীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার নিয়েও আলোচনা চলছে।

উরসুলা ফন ডার লায়েন আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই আর্থিক সহায়তা এবং স্থিতিশীলতার মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা লাখ লাখ সিরীয় শরণার্থীর নিজ দেশে ফেরার বাস্তবসম্মত পথ তৈরি হবে।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়া এখন শান্তি ও পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। ইইউ মনে করে, সিরিয়ার এই উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সফল করতে আন্তর্জাতিক সংহতি ও আর্থিক বিনিয়োগ অপরিহার্য। তবে তারা উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পোতে চলমান বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সকল পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts