বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপালে অবস্থিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) শীর্ষ পদে আবারও একজন ভারতীয় প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রকৌশলী রমানাথ পূজারী।

বিআইএফপিসিএল-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজীম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রমানাথ পূজারী এর আগে এই প্রকল্পেরই প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পে শীর্ষ পদে দেশীয় কোনো বিশেষজ্ঞ বা অভিজ্ঞ বাংলাদেশি প্রকৌশলীকে সুযোগ না দিয়ে আবারও কেন ভারতীয় এনটিপিসি থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলো, তা নিয়ে বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মৃদু গুঞ্জন ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে অভিজ্ঞ ও দক্ষ জনবল থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদে শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে অন্তরায় হতে পারে। যদিও যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি হওয়ায় চুক্তির মারপ্যাঁচে ভারতীয় এনটিপিসি-র কর্তৃত্ব বজায় থাকছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকৌশলী রমানাথ পূজারী ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) লিমিটেডের একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ নির্বাহী, যার বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘ ৩৬ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিক্ষাগত জীবনে তিনি ওডিশার ভুবনেশ্বর থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং গুরগাঁও থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল ও আইআইএম আহমেদাবাদ থেকে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এর আগে তিনি ভারতের ছত্তিশগড়ে অবস্থিত ২৯৮০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল সিপাত পাওয়ার স্টেশনের প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে প্ল্যান্ট পরিচালনা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ (সেফটি) এবং পরিবেশগত বিধিমালা প্রতিপালনে তার বিশেষ দক্ষতা ও সুখ্যাতি রয়েছে বলে বিআইএফপিসিএল-এর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এর আগে প্রকল্প পরিচালক থাকাকালীন তিনি স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক উন্নয়ন ও টাউনশিপ গড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। তার অধীনে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

রমানাথ পূজারীর ব্যক্তিগত দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও, সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বা স্বনির্ভর বিদ্যুৎ খাতের স্লোগানের মুখে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের স্থলাভিষিক্ত না করাকে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts