ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিক্রি থেকে তার দেশ ৩০ কোটি ডলার পেয়েছে এবং এ অর্থ দেশটির বিধ্বস্ত মুদ্রা বলিভারকে চাঙা করতে ব্যবহার করা হবে।

কারাকাস থেকে এএফপি জানায়, রদ্রিগেজ জানান, ওয়াশিংটনের মাধ্যমে সম্পন্ন ৫০ কোটি ডলারের তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ‘স্থিতিশীল’ করতে ব্যবহার করা হবে, যাতে ‘আমাদের শ্রমজীবী মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষিত হয়’।

গত সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ‘ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তি’র মধ্যস্থতা করেছেন, যা ‘আমেরিকান ও ভেনেজুয়েলার জনগণের উপকারে আসবে’।

ট্রাম্প বলেন, তেল বাজারদরে বিক্রি করা যেতে পারে এবং বিক্রির অর্থ ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে’।

২০১৮ সাল থেকে বৈদেশিক মুদ্রা ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে—সে সময় বলিভার কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়ে এবং ডলার দেশটির বাস্তব কার্যকর মুদ্রায় পরিণত হয়।

এর পর থেকে ডলার ও বলিভার পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ছয় বছর ধরে চলা নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়, ফলে এর মূল্য দ্রুত বেড়ে যায়।

মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ধীরে ধীরে সরকারি ডলারদর ও কালোবাজারি দরের ব্যবধান কমাতে চায় বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা ইকোঅ্যানালিটিকা।

৩ জানুয়ারি কারাকাসে বোমা হামলার অভিযানে দীর্ঘদিনের নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার আগে, মার্কিন তেল নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ভেনেজুয়েলাকে তার অপরিশোধিত তেলে বড় ধরনের ছাড় দিতে হতো।

ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন।

ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ভেনেজুয়েলার তেল বহনকারী ট্যাংকার জব্দের মাধ্যমে ওই বিক্রির ওপর কড়াকড়ি শুরু করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts