বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে এক বড় মাইলফলক অর্জিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলার ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও কোয়ারেন্টাইন বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় এখন থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে যাচ্ছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের তুলা আমদানিতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের দীর্ঘদিনের একচেটিয়া আধিপত্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ?
এতদিন বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলো তুলার জন্য মূলত ভারতের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু ভারতীয় তুলার মান নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ উঠত এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা লেগেই থাকত। অন্যদিকে, উন্নত মানের হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের ফিউমিগেশন (বিষবাষ্পীকরণ) নিয়ম এবং শুল্ক জটিলতার কারণে মার্কিন তুলা আমদানিতে খরচ বেশি হতো।
এখন শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ায়:
- উৎপাদন খরচ কমবে: উন্নত মানের সুতা তৈরিতে খরচ কমে আসবে।
- সময়ের সাশ্রয়: বন্দরগুলোতে মার্কিন তুলা খালাসের জটিলতা কমবে।
- পণ্যের মানোন্নয়ন: উচ্চমূল্যের পোশাক (High-end Garments) তৈরিতে মার্কিন তুলার ব্যবহার বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করবে।
ভারতের বাজারে প্রভাব
বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তুলা আমদানিকারক দেশ। আমদানিকৃত তুলার একটি বড় অংশ আসত ভারত থেকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলার দাম বৃদ্ধি এবং রপ্তানি নীতিতে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা বিকল্প বাজারের সন্ধান করছিলেন। মার্কিন তুলায় এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ায় আমদানিকারকরা এখন পশ্চিমের দিকে ঝুঁকছেন, যা তুলার বাজারে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
উদ্যোক্তাদের প্রতিক্রিয়া
বিজিএমইএ (BGMEA) এবং বিটিএমএ (BTMA) নেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাক যখন আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই রপ্তানি হবে, তখন তা এক ধরনের ‘ভ্যালু চেইন’ তৈরি করবে। এতে করে আমেরিকান ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি পোশাকের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই সুবিধার ফলে আগামী এক বছরে মার্কিন তুলা আমদানির পরিমাণ প্রায় ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।



