ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুরের তিনটি আসনে ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় ১৭ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তিনটি আসনের ফলাফলে বিজয়ী প্রার্থীরা স্বল্প ব্যবধানে জয় পেলেও অধিকাংশ প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন।

মাদারীপুর-১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৮৯ জন। ১০২টি কেন্দ্র ও পোস্টাল ভোট মিলিয়ে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭১০টি, যা শতকরা ৫৬.৩৪ শতাংশ। বাতিল ভোট ছিল ৩ হাজার ৭১৯টি।

১০ জন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (রিকশা প্রতীক) প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাদিরা আক্তার ৬৪ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং স্বতন্ত্র (জাহাজ) প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা ৩৬ হাজার ৫৬৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। অন্য সাত প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান।

মাদারীপুর-২ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৩২ জন। ১৪৫টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪টি (৪৪.০৫ শতাংশ)। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৯৪।

১০ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের জাহান্দার আলী মিয়া ৬১ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। স্বতন্ত্র (কলস) প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য ৪৬ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (রিকশা) আব্দুস সোবাহান ৩৬ হাজার ১৬৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।অবশিষ্ট সাত প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

মাদারীপুর-৩ আসনে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮০৬ জন ভোটারের এ আসনে ১৩৪টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২ লাখ ১ হাজার ২৩৭টি (৫১.৮৯ শতাংশ)। বাতিল ভোট ছিল ৪ হাজার ৪৭৫টি। ৫ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ৯৬ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (দাঁড়িপাল্লা) প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম ৮৪ হাজার ৬৪৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। অন্য তিন প্রার্থী প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

তিনটি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী ন্যূনতম ভোট সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে অধিকাংশ আসনেই জামানত হারানোর হার ছিল বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts