নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
নির্বাচনী সংস্কৃতির ইতিবাচক পরিবর্তনে সন্তোষ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা হ্যাপি (খুশি)। তবে ভোট পারফেক্ট করাই এখন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।” শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন সংক্রান্ত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান, নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। ড. ইউনূস বৈঠকে বলেন, “সারা দেশে এখন নির্বাচনের এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—কেউ কারো বিরুদ্ধে কটু কথা বলছে না। এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় পরিবর্তন।”
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, এবারের ভোট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং নারীরা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারবেন।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রেস সচিব জানান, ড. ইউনূস এদিন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৫টি জায়গায় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘বডি অন ক্যামেরা’র মাধ্যমে পরীক্ষামূলক কথা বলেছেন। এছাড়া ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কোনো কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বার্তা পৌঁছে যাবে।
নির্বাচনের নিরাপত্তায় সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৮ হাজার সদস্য ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোতায়েন হবেন। এছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বা অভিযোগের জন্য ‘৩৩৩’ হটলাইন নম্বর চালু করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচনের খবর সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি নেই। সরকার সাংবাদিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে ‘পাশা’ নামে একটি এনজিও-র ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষকের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।



