বেইজিং ও অটোয়া: ভেনেজুয়েলার সস্তা অপরিশোধিত তেল থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর চীনের তেল শোধনাগার বা রিফাইনারিগুলো এখন বিকল্প হিসেবে কানাডার ভারী অপরিশোধিত তেলের (Heavy Crude Oil) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মাদুরো সরকারের তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চীন এই কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে।
কানাডার আলবার্টা থেকে উত্তোলিত ভারী অপরিশোধিত তেল রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে কাছাকাছি বিকল্প। চীনের রিফাইনারিগুলো ভারী তেল শোধনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি, তাই কানাডার এই তেল তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
সম্প্রতি সম্প্রসারিত হওয়া কানাডার ‘ট্রান্স মাউন্টেন পাইপলাইন’ (Trans Mountain Pipeline) এই বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল এখন সহজেই কানাডার পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাচ্ছে, যেখান থেকে জাহাজের মাধ্যমে সরাসরি এশিয়ায় সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার তেল খাতের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ এবং ‘বিগ অয়েল’ কোম্পানিগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে চীনের রিফাইনারিগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাহিদা বাড়ায় কানাডার জ্বালানি খাত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দেশটি এখন আর শুধুমাত্র মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীল নয়। রাশিয়ার তেলের পাশাপাশি কানাডার এই বিকল্প উৎসটি চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীন ও কানাডার এই ক্রমবর্ধমান তেল বাণিজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের নজর এড়াবে না, কারণ তারা জ্বালানি বাজারকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।
কানাডার জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে তবে আগামী কয়েক বছরে এশিয়ায় কানাডার তেলের রপ্তানি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।



