ওয়াশিংটন: ভেনেজুয়েলার সাথে দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পর একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬) এক বার্তায় তিনি জানান, ভেনেজুয়েলা সরকার শান্তি স্থাপনের নিদর্শন হিসেবে বিপুল সংখ্যক রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিচ্ছে। এই পদক্ষেপকে তিনি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বুদ্ধিদীপ্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- রাজনৈতিক বন্দী মুক্তি: ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত সরকার “শান্তি সুসংহত করার” লক্ষ্যে এই মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুক্তি পেয়েছেন।
- হামলার পরিকল্পনা বাতিল: ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক সহযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটিতে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। তবে নিরাপত্তার খাতিরে মার্কিন নৌযানগুলো তাদের বর্তমান অবস্থানেই মোতায়েন থাকবে।
- বিশাল জ্বালানি বিনিয়োগ: ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি কোম্পানিগুলোর একটি কনসোর্টিয়াম (বিগ অয়েল) ভেনেজুয়েলার তেল ও গ্যাস অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই অবকাঠামোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
- হোয়াইট হাউসে বৈঠক: এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে আজই হোয়াইট হাউসে বিশ্বের শীর্ষ ১৪টি তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সাথে বৈঠকে বসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন যে, ভেনেজুয়েলা এখন থেকে তাদের তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে শুধুমাত্র ‘মেইড ইন আমেরিকা’ বা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্য (যেমন: কৃষি পণ্য, ওষুধ ও বিদ্যুৎ সরঞ্জাম) ক্রয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর এই নতুন চুক্তিটি লাতিন আমেরিকার দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিশ্ব তেলের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও সুসংহত করবে।



