স্পোর্টস ডেস্ক | ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্ব ক্রিকেটের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান। মাঠের লড়াইয়ে তারা একে অপরের শত্রু হলেও, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে চিত্রপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির ‘অন্যায়’ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যে কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা এখন বিশ্ব ক্রিকেট রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ যেতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি টাইগারদের টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ দিয়ে দেয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমনকি তারা ভারতের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি বয়কটেরও ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি এই অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যে আইসিসিকে তিনটি কঠোর শর্ত দিয়েছে পিসিবি।
পিসিবির সেই ‘তিন শর্ত’
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও এনডিটিভি মারফত জানা গেছে, রোববার লাহোরে আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পিসিবি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। শর্তগুলো হলো: ১. ক্ষতিপূরণ: বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় বাংলাদেশের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, আইসিসিকে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ২. অংশগ্রহণ ফি: টুর্নামেন্টে না খেলেও বাংলাদেশকে শতভাগ অংশগ্রহণ ফি (Participation Fee) প্রদান করতে হবে। ৩. আয়োজক স্বত্ব: ভবিষ্যতে বড় কোনো আইসিসি ইভেন্ট এককভাবে বা যৌথভাবে আয়োজনের নিশ্চয়তা দিতে হবে বাংলাদেশকে।
অনড় মহসিন নাকভি, আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
যদিও আইসিসির পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়া হয়েছে, তবুও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এখনো নিজের অবস্থানে অনড়। বোর্ডের ভেতরে কেউ কেউ ভারতের বিপক্ষে খেলার পক্ষে মত দিলেও, নাকভি বাংলাদেশের ‘মর্যাদা’ রক্ষার লড়াইকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
সবশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আজ (সোমবার) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন পিসিবি প্রধান। সরকার থেকে সবুজ সংকেত পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তান।
পর্দার আড়ালে ক্রিকেট রাজনীতি
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পিসিবির এই অবস্থান কেবল ভ্রাতৃত্ব নয়, বরং ক্রিকেট বিশ্বে এশীয় দেশগুলোর ঐক্য প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ। যদি আইসিসি এই দাবিগুলো মেনে নেয়, তবে তা হবে বিসিবির জন্য বড় এক নৈতিক জয়। আর যদি আইসিসি অনড় থাকে, তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচহীন একটি বিশ্বকাপ যে টুর্নামেন্টের ব্যবসায়িক কাঠামো ধসিয়ে দেবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত এখন তাকিয়ে আছেন লাহোরের সেই বৈঠকের দিকে। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় পাকিস্তানের এই ‘দাদাগিরি’ কি শেষ পর্যন্ত সফল হবে? নাকি আইসিসির শাস্তির খড়গ নামবে বাবর আজমদের ওপর? উত্তর মিলবে হয়তো আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।



