আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যখন জাপান, তাইওয়ান এবং ফিলিপাইনের সঙ্গে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই নিজেদের সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘ফুজিয়ান’ সমুদ্রে মোতায়েন করেছে চীন। এই পদক্ষেপকে এই অঞ্চলে বেইজিংয়ের সামরিক আধিপত্য বিস্তারের একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

উত্তর-পূর্ব চীনের ছিংদাও শহরের ইউচি নৌঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করা এই রণতরীটি বর্তমানে পীত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ফুজিয়ান কেবল একটি জাহাজ নয়, বরং চীনের নৌ-প্রযুক্তির এক বিশাল মাইলফলক

যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড-ক্লাস ক্যারিয়ারের মতো এতেও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এয়ারক্রাফ্ট লঞ্চ সিস্টেম (EMALS) ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ফলে পূর্ণ জ্বালানি এবং সর্বোচ্চ পরিমাণ অস্ত্রসহ ভারী যুদ্ধবিমান অত্যন্ত কম সময়ে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। এই ক্যারিয়ার থেকে J-15T ফাইটার, J-35 স্টেলথ জেট এবং KJ-600 আর্লি ওয়ার্নিং বিমান পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে।

চীনের আগের দুটি রণতরী, ‘লিয়াওনিং’ ও ‘শানডং’ ছিল মূলত সোভিয়েত নকশায় তৈরি ‘স্কি-জাম্প’ র‍্যাম্প নির্ভর। কিন্তু ফুজিয়ান সম্পূর্ণ নতুন এবং উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি, যা একে পশ্চিমা বিশ্বের আধুনিক রণতরীগুলোর সমকক্ষ করে তুলেছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েনের মাধ্যমে চীন একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। তারা এখন আর কেবল নিজেদের উপকূলীয় সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। তাদের মূল লক্ষ্য ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’ (জাপান-তাইওয়ান-ফিলিপাইন লাইন) অতিক্রম করে দূরবর্তী গভীর সমুদ্রে নিয়মিত সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করা।

তাইওয়ান ইস্যুতে যখন বৈশ্বিক রাজনীতি উত্তপ্ত, তখন ফুজিয়ানের এই উপস্থিতি প্রতিবেশী দেশগুলো এবং মার্কিন মিত্রদের জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts