নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
পোস্টাল ব্যালটের ভাঁজে বিএনপির নির্বাচনি প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ঢাকা পড়ে যাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপার ছাপানোর ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নয়, বরং সরকারি গেজেটের ক্রমধারা বা ধারাবাহিকতাই অনুসরণ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছিলেন যে, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকটি ব্যালটের ঠিক মাঝখানে (ভাঁজের জায়গায়) রাখা হয়েছে। এর ফলে ব্যালটটি ভাঁজ করলে প্রতীকটি সহজে চোখে পড়ে না। বিএনপি এই প্রতীক বিন্যাস সংশোধন করে নতুন করে ব্যালট ছাপানোর দাবি জানায়।
এই অভিযোগের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “এটি একটি ‘মিস’ (ত্রুটি) হতে পারে, তবে আমি এখনই বিস্তারিত বলতে পারব না। কারণ যারা ছাপানোর দায়িত্বে ছিলেন, তাদের সাথে কথা না বলে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে নীতিগতভাবে সরকারি গেজেটে যেভাবে প্রার্থীদের ক্রম সাজানো থাকে, ব্যালটেও সেই অর্ডার বা ধারাবাহিকতাই বজায় রাখা হয়েছে।”
ব্যালট পুনরায় ছাপানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি কমিশন সভায় আলোচনা করা হবে এবং এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্প্রতি বাহরাইনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে পাঠানো ১৬০টি পোস্টাল ব্যালট একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা এবং তা নিয়ে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসি।
ডাক বিভাগের মাধ্যমে বিদেশে ব্যালট পাঠানো হচ্ছে। বাহরাইনে ১৬০টি ব্যালট একটি বক্সে পাঠানো হয়েছিল, যা অনেকটা ছাত্রাবাসের ‘চিঠি বক্সের’ মতো। সেখান থেকে প্রবাসীরা নিজেদের নামে আসা ব্যালট সংগ্রহ করবেন।
সচিব বলেন, “ব্যালট হাতে পেয়ে কিছু প্রবাসী আবেগে বা আনন্দে ভিডিও করেছেন। তবে এভাবে গোপনীয় ব্যালটের ভিডিও করা মোটেও ঠিক হয়নি।”
পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় দেড় কোটির বেশি প্রবাসী ভোটারের কাছে এই ব্যালট পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলাকালেই প্রতীকের অবস্থান ও ভিডিও ভাইরাল হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হলো।



