ওয়াশিংটন ডি.সি. | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়ায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ওভাল অফিসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে এবং শান্তি চুক্তিতে সই করতে প্রস্তুত থাকলেও, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অনমনীয় অবস্থানের কারণে আলোচনা এগোচ্ছে না।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইউরোপের এই দীর্ঘতম স্থলযুদ্ধের মীমাংসা না হওয়ার পেছনে মূল বাধা জেলেনস্কি। কেন আলোচনা সফল হচ্ছে না—রয়টার্সের এমন প্রশ্নের জবাবে রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট এক শব্দে উত্তর দেন, “জেলেনস্কি।”
ট্রাম্প আরও বলেন “আমার মনে হয় তিনি (পুতিন) চুক্তির জন্য প্রস্তুত। উল্টো ইউক্রেনই তেমন প্রস্তুত নয় বলে মনে হচ্ছে। সেখানে (চুক্তিতে) পৌঁছাতে জেলেনস্কির বেশ সমস্যা হচ্ছে।”
ট্রাম্পের এই দাবি কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্রদের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো বারবার বলে আসছে যে, মস্কোর পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের কোনো আন্তরিক সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না। এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সতর্ক করেছে যে, পুতিন পুরো ইউক্রেন এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কিছু অংশ পুনর্দখলের পরিকল্পনা ত্যাগ করেননি। তবে ট্রাম্পের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড এসব প্রতিবেদন উসকে দিয়ে রাশিয়ার প্রতি নমনীয় সুর বজায় রেখেছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার আলোচনা মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে, মার্কিন মধ্যস্থতাকারীরা ইউক্রেনকে তাদের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস এলাকা রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দিয়ে চুক্তিতে আসার জন্য চাপ দিচ্ছে। উল্লেখ্য, দনবাসের সিংহভাগ এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে রাশিয়া যাতে পুনরায় আক্রমণ করতে না পারে, সেজন্য ইউক্রেনকে কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, তা নিয়ে দরকষাকষি চলছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষে এই শান্তি আলোচনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, তারা শীঘ্রই মস্কো সফরে যেতে পারেন, যদিও ট্রাম্প এই সফরের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শুরু থেকেই বলে আসছেন, দেশের সংবিধান অনুযায়ী ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার কোনো অধিকার তার নেই। রাশিয়ার কাছে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না কিয়েভ—এই অবস্থানেই তিনি এখনো অনড়। আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে এই অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা হতে পারে।



