ইসলামাবাদ, ৭ জানুয়ারি — পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধানরা একটি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন যার মধ্যে ঢাকার কাছে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইসলামাবাদ যখন তাদের অস্ত্র সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়াচ্ছে এবং বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করছে, তখন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধু এবং বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান জেএফ-১৭ থান্ডার সংগ্রহের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই যুদ্ধবিমানটি পাকিস্তান ও চীন যৌথভাবে তৈরি করেছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাকিস্তান দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে এবং এর সাথে একটি সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তা কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।
এই আলোচনা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশ একে অপরের নিকটবর্তী হয়েছে, যা দিল্লির সাথে ঢাকার সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বলেছে, এই সফর দুই দেশের শক্তিশালী ঐতিহাসিক বন্ধনকে পুনরুজ্জীবিত করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার যৌথ সংকল্পকে প্রতিফলিত করেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে ইসলামাবাদ ও ঢাকা ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সরাসরি বাণিজ্য শুরু করেছে এবং সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
জেএফ-১৭ বর্তমানে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি আজারবাইজান এবং লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মির সাথে ৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তির পর এটি এখন বাংলাদেশের দিকে নজর দিচ্ছে।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাদের তৈরি বিমানগুলো পরীক্ষিত এবং আমরা এত বেশি অর্ডার পাচ্ছি যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রয়োজন নাও হতে পারে।



