কাওসার আহমেদ, পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পবিত্র মাহে রমজানে আত্মসংযম ও ত্যাগের মহিমায় যখন চারিদিক ভাস্বর, তখন পটুয়াখালীতে ইফতার আয়োজনকে কেন্দ্র করে এক অনন্য মানবিক দৃশ্য স্থানীয়দের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। বিত্ত আর আভিজাত্যের ঊর্ধ্বে উঠে ইফতার ভাগাভাগি করার এই চিত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় জনপদে প্রশংসায় ভাসছে।
সম্প্রতি এক বিকেলে দেখা যায়, পটুয়াখালীর এক ব্যক্তি তার ঘরের ভেতর অত্যন্ত যত্নসহকারে ইফতার সামগ্রী সাজাচ্ছেন। সারাদিন রোজা রাখার পর রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি একে একে প্লেটে তুলে দিচ্ছেন ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, চপ ও সুমিষ্ট খেজুর। প্রতিটি খাবার যেন মমতার ছোঁয়ায় পরিপাটি করে সাজানো।
এই আয়োজনের সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী অংশটি ছিল জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দুই শিশুর কৌতূহলী দৃষ্টি। জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের চোখে ছিল এক অদ্ভুত অপেক্ষা ও আনন্দের ঝিলিক। তাদের সেই নিষ্পাপ চাউনি যেন ইফতারের এই মানবিক আয়োজনকে আরও গভীর অর্থবহ করে তুলেছে।
উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য—এই কথাটিই যেন এই ছবির মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। একজনের ইফতার আয়োজনের আনন্দ যখন অন্য কারো, বিশেষ করে শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেটি আর কেবল খাবার থাকে না; তা হয়ে ওঠে ভালোবাসার প্রতীক।”
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, রমজান মাস কেবল নিজের রসনা তৃপ্তির জন্য নয়, বরং অভাবীদের পাশে দাঁড়ানোর সময়। সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যদি যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসে, তবে কোনো অসহায় মানুষই ইফতারের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না।
বক্তারা এই ঘটনার মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পটুয়াখালীর এই সাধারণ অথচ মহৎ দৃশ্যটি আবারও প্রমাণ করল যে, সহমর্মিতা ও ভাগাভাগি করার মাধ্যমেই প্রকৃত শান্তি ও ধর্মীয় সার্থকতা নিহিত।



