নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই এবং সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক অ্যালবার্ট গম্বিস ও মোর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে ড. ইউনূস জানান নির্বাচনকালে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ ‘নিরপেক্ষ’ থাকবে। সব রাজনৈতিক দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ পক্ষপাতমুক্ত রাখা হবে।
নির্বাচন ঘিরে অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিওগুলোও এখন জনগণ শনাক্ত করতে পারছে।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক গম্বিস এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, বর্তমানে ভুয়া খবর বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের অনুমোদন পেলে ‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন অধ্যায় শুরু করবে এবং ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচারের উত্থানের পথ বন্ধ করে দেবে।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে জুলাই বিপ্লবে তরুণ আন্দোলনকারীদের ভূমিকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান ও টেকসই ব্যবস্থাপনা। জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশে সত্য ও পুনর্মিলনের সম্ভাবনা।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিকরা গত দেড় বছরে দেশ পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন। বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।



