ওয়াশিংটন ডি.সি. | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপে নিজেকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলার ‘অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট’ (Acting President) হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ একটি উইকিপিডিয়া ফরম্যাটের প্রোফাইল শেয়ার করে তিনি এই দাবি জানান।
গতকাল (১১ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা ৭:২৩ মিনিটে ট্রাম্পের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়। সেখানে দেখা যায়, তার অফিশিয়াল পোট্রেটের নিচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি ‘Acting President of Venezuela’ পদবিটি যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্ব গ্রহণের সময়কাল হিসেবে জানুয়ারি ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
ভেনিজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট এবং বর্তমান প্রশাসনের ওপর মার্কিন চাপের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালেও ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে এবার কোনো ভেনিজুয়েলান নেতাকে নয়, বরং ট্রাম্প সরাসরি নিজেই সেই দায়িত্ব নেওয়ার দাবি করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই ভেনিজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো সরকারকে ‘অবৈধ’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে। তবে ভেনিজুয়েলার বর্তমান সরকার বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পাল্টা জবাব আসেনি।
ট্রাম্পের এই পোস্টটি শেয়ার হওয়ার পর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে একে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখলেও কেউ কেউ একে বড় কোনো কূটনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে মনে করছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের অন্য একটি সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করা আন্তর্জাতিক আইনে অত্যন্ত জটিল এবং নজিরবিহীন বিষয়। এটি ভেনিজুয়েলার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের কৌশলের একটি নতুন রূপ হতে পারে।



