নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) টানা ৯ দিনের আপিল শুনানিতে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে অভিযুক্ত ২৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনই শেষ পর্যন্ত তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার এই ‘নমনীয়তা’ নিয়ে উঠেছে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ।
শনিবার ও রোববারের শুনানিতে আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে ইসি সিদ্ধান্ত নেয় যে, মনোনয়নপত্র দাখিলের আগে যদি কোনো প্রার্থী বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন জমা দেন, তবে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে গণ্য করা হবে। শুধুমাত্র নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনপত্র, অ্যাফিডেভিট এবং নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার প্রমাণপত্র দেখিয়ে পার পেয়ে গেছেন সিংহভাগ প্রার্থী।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে বড় দলগুলোর অনেক হেভিওয়েট প্রার্থীর শিবিরে। ফেনী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খানম রিতা এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতের এ কে এম ফজলুল হকসহ ২১ জন নির্বাচনের মাঠে থাকার সবুজ সংকেত পেয়েছেন।
অন্যদিকে, কপাল পুড়েছে তিনজনের। কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির আবদুল গফুর ভূঁইয়া, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের আজিজুর রহমান এবং ময়মনসিংহ-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তানভীর আহমেদ রানার প্রার্থিতা বাতিল করেছে ইসি। এছাড়া কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ জানানোর কথা রয়েছে।
কমিশনের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটার ও সচেতন নাগরিকেরা। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা অবস্থায় কারও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। শুধু নাগরিকত্ব ত্যাগের ‘আবেদন’ বা ‘অঙ্গীকারনামা’ জমা দিয়ে প্রার্থিতা বহাল রাখা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পরিপন্থী। নাগরিকত্ব আইনগতভাবে ত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত কেউ বৈধ প্রার্থী হতে পারেন না।
তবে শুনানির সমাপনী বক্তব্যে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা কোনো পক্ষপাতিত্ব করে রায় দিইনি। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আপিল শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।”
তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। পরদিন বুধবার বরাদ্দ দেওয়া হবে প্রতীক এবং বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। তবে যারা ইসির সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি, তারা চাইলে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, এবার মোট দুই হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল, যার মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ৭২৩টি বাতিল হয়। আপিল শুনানির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ৪২০ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।



