ঢাকা | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর মাধ্যমে আলোচিত এই গণহত্যার বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী তাদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষ গত ২২ ডিসেম্বর শুনানিতে আসামিদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে। যার মধ্যে প্রধান তিনটি হলো:
১. দেশব্যাপী গণহত্যা ও জখম: আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী ক্যাডাররা রংপুরে আবু সাঈদসহ সারাদেশে ১,৪০০-এর বেশি ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর জখম করে। ২. মিরপুর এলাকায় হত্যাকাণ্ড (২০ জুলাই): এই দুই আসামির সহায়তায় ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সিফাত হাওলাদারসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা ও আহত করা হয়। ৩. মিরপুর-১০ এলাকায় সহিংসতা (২৮ জুলাই): ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় আখতারুজ্জামানকে হত্যা এবং অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে আহত করার পেছনে তাদের প্রত্যক্ষ উস্কানি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল মনে করছে, অভিযুক্তরা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।



