নিজস্ব প্রতিবেদক | আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটের অন্দরে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—বাকি থাকা ৪৭টি আসনের ভাগ্য। জোটের বড় শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শেষ মুহূর্তে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ায় এই আসনগুলো নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এই জোটে এখন আসন ভাগাভাগি ও যৌথ ইশতেহার নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

জোট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্দ রাখা ৪৭টি আসন মূলত বর্তমান শরিকদের মধ্যেই বণ্টন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অতিরিক্ত ৭টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসন পেতে পারে। বাকি আসনগুলো নিয়ে মূল আলোচনা চলছে জোটের দুই প্রধান শক্তি জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি-এর মধ্যে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন না আসায় জামায়াত, এনসিপি এবং দুই খেলাফত মজলিসের আসন সংখ্যা বাড়ছে। এতে মামুনুল হকের দলের আসন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৭-এ এবং খেলাফত মজলিসের ১৩-তে। তবে এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন, সোমবারের (১৯ জানুয়ারি) মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

১১ দলীয় জোট বলা হলেও বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে ১০টি দল। শূন্যস্থান পূরণে জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ন্যাপ-কে জোটে টানার গুঞ্জন রয়েছে। জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, কারো আসতে আপত্তি নেই, তবে এখন আর নতুন করে জোটের ব্যানারে মনোনয়নের সুযোগ নেই। মামুনুল হকও স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন দল যুক্ত হলেও আসন সমঝোতার আর সুযোগ থাকছে না।

জোটের শরিকদের মধ্যে আদর্শিক ভিন্নতা থাকায় যৌথ ইশতেহার হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাসির আলী যৌথ ইশতেহারের পক্ষে ইতিবাচক মত দিলেও ভিন্ন সুর শোনা গেছে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর কণ্ঠে। তিনি জানান, যৌথ ইশতেহারের বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত নন। তবে নির্বাচনী মাঠে জোটগত অংশগ্রহণ থাকতে পারে।

জোটের সম্ভাব্য ইশতেহারে যা থাকতে পারে:

  • জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা: রাষ্ট্র সংস্কার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানের প্রতিফলন।
  • অর্থনৈতিক সংস্কার: অর্থ পাচার রোধ ও লুটপাট বন্ধের প্রতিশ্রুতি।
  • অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ: তরুণ ভোটারদের চাহিদা ও নারী অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়া।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। পরদিন ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ এবং ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচন।

জোট সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, “খুব দ্রুত আমরা চূড়ান্ত আসন বণ্টন জানাব। আমাদের লক্ষ্য ৩০০ আসনেই জোটের একক প্রার্থী নিশ্চিত করা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts