নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | বুধবার রাত ৮:৩০, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীর বিশাল ব্যবধানে লিড থাকার মধ্যেই নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৩৬টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা শেষে যখন ৩৯ কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের অপেক্ষায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ম্যানেজমেন্ট ও নাট্যকলা বিভাগে ‘অতিরিক্ত ব্যালট’ পাওয়ার অভিযোগে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ পুনরায় স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
সর্বশেষ ভোটের চিত্র (৩৬ কেন্দ্র পর্যন্ত)
স্থগিত হওয়ার আগে ৩৬টি কেন্দ্রের সমন্বিত ফলাফল অনুযায়ী ভিপি পদে বড় জয়ের পথে ছিলেন শিবিরের প্রার্থী:
- রিয়াজুল ইসলাম (ছাত্রশিবির): ৪,৮৮৩ ভোট
- একেএম রাকিব (ছাত্রদল): ৩,৯২৩ ভোট
- ব্যবধন: ৯৬০ ভোট (শিবির এগিয়ে)
নতুন সংকট: অতিরিক্ত ব্যালট
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ম্যানেজমেন্ট বিভাগে দুটি এবং নাট্যকলা বিভাগে একটি অতিরিক্ত ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সংগৃহীত ব্যালট সংখ্যা ওই কেন্দ্রের মোট পোল হওয়া ভোটের চেয়ে বেশি হওয়ায় প্যানেলগুলোর প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান। এর ফলে নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বাকি তিনটি কেন্দ্রের (অ্যাকাউন্টিং, মার্কেটিং ও ফিন্যান্সের অবশিষ্টাংশ হতে পারে) ফলাফল ঘোষণা ও চূড়ান্ত লিড প্রকাশ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে ব্যালট জটিলতা
গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে ওএমআর মেশিনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রথম দফায় গণনা স্থগিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আজ সকাল থেকে ফলাফল ঘোষণা শুরু হলেও দিনের শেষে এসে ব্যালট জটিলতায় দ্বিতীয়বারের মতো হোঁচট খেল দীর্ঘ ২১ বছর পর আয়োজিত এই ঐতিহাসিক নির্বাচন।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে নির্বাচন কমিশনারদের সাথে বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলছে। বাইরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও স্বচ্ছ ফলাফল ঘোষণার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনাররা জানিয়েছেন, “অতিরিক্ত তিনটি ব্যালটের রহস্য উদঘাটন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতেই এই সাময়িক স্থগিতাদেশ। আমরা চেষ্টা করছি রাতেই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে।”



