নয়াদিল্লি: ২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনা করছে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ভারতের প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সরকারি কাজের (কন্ট্রাক্ট) নিলামে চীনা কোম্পানিগুলোকে পুনরায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

২০২০ সালের সংঘাতের পর ভারত সরকার একটি নিয়ম জারি করেছিল যে, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে এমন দেশগুলোর (বিশেষ করে চীন) কোনো কোম্পানিকে সরকারি কাজে বিড করতে হলে বিশেষ কমিটির নিবন্ধন এবং রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে হবে। এই নিয়মের ফলে কার্যত গত পাঁচ বছর চীনা কোম্পানিগুলো ভারতের বড় বড় প্রকল্প থেকে বাদ পড়েছিল। তবে বর্তমানে সীমান্ত উত্তেজনা হ্রাস পাওয়ায় এবং কূটনৈতিক আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় এই কড়াকড়ি তুলে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা পণ্য ও পরিষেবার ওপর বিধিনিষেধের কারণে ভারতের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পিছিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এই কড়াকড়ি শিথিল করার অনুরোধ জানিয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে আগামী এক দশকে থার্মাল পাওয়ার সক্ষমতা ৩০৭ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতেই পুরোনো অবস্থান থেকে সরে আসছে নয়াদিল্লি।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নীতি এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভারত বেইজিংয়ের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে মনোযোগী হয়েছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীন সফরের পর ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়েছে এবং চীনা পেশাদারদের জন্য বিজনেস ভিসা সহজ করা হয়েছে।

যদিও অর্থ মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনা তৈরি করেছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয় (PMO) থেকে। তবে সরকারি কাজ বা কন্ট্রাক্টের ক্ষেত্রে ছাড় দিলেও, চীন থেকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (FDI) ওপর থাকা কড়াকড়ি এখনই তুলে নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

ভারত ও চীনের এই বাণিজ্যিক বরফ গলে যাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts