নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হলেন দৈনিক আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে পাবনার সুজানগর উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে এই গ্রেপ্তারের নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ উসকানি ও পুলিশের হয়রানিমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

আসাদুল্লাহর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার রাতে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির একদল নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে আসাদুল্লাহর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক সাংবাদিক আসাদুল্লাহ ও তার বৃদ্ধ বাবার গায়ে রং মাখিয়ে দেয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বিএনপি-ছাত্রদলের কর্মীরা।

পরিবারের অভিযোগ, হামলার পর বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারাই পুলিশকে খবর দিয়ে নিয়ে আসে। গভীর রাতে কামালপুর ফাঁড়ির পুলিশ বাড়িতে হানা দিয়ে আসাদুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায়।

আসাদুল্লাহর স্ত্রী নাঈমা আক্তার রিমা বলেন, গভীর রাতে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত। স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বাসায় এসে আগে ঝামেলা পাকায়, এরপর পুলিশ ডেকে তাকে গ্রেপ্তার করায়। এটি একটি সাজানো ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক হয়রানি ছাড়া আর কিছুই নয়।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, ২০২৪ সালের জামালপুর জেলার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় আসাদুল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তিনি ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, এতদিন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করলেও কেন ঠিক বিএনপি-ছাত্রদলের সাথে বিরোধের কয়েক ঘণ্টার মাথায় গভীর রাতে তাকে তুলে নেওয়া হলো? পুলিশের এই ‘তৎপরতা’ কোনো বিশেষ মহলের ইশারায় কি না, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ উপজেলা হাটখালী ইউনিয়নের আকমল শিকদারের ছেলে। তিনি দৈনিক আমার দেশ-এর নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত। এছাড়া তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রেস উইংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পাবনা-২ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts