কামাল হোসেন সজিব, খাগড়াছড়ি:
নানা প্রতিকূলতা, রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও দীর্ঘ কারাবাস সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। তাঁর এই ত্যাগ ও সংগ্রামী নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতাদের জন্য ধ্রুবতারা বা পথ-নির্দেশক হয়ে থাকবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা চৌধুরী কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মাটিরাঙ্গা উপজেলা শাখা আয়োজিত এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ওয়াদুদ ভূইয়া।
সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, “তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর অদম্য সাহসী ভূমিকা দেশের প্রতিটি নেতা-কর্মীর জন্য অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আজীবন কাজ করেছেন এবং তাঁর হাত ধরেই দেশে পৃথক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধই আমাদের স্বাধীনতার একমাত্র ভিত্তি। ইতিহাসের সত্য কখনো মুছে ফেলা যায় না। একটি গোষ্ঠী ১৯৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান খাটো করে জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরির যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা কখনোই কাম্য নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
মাটিরাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা, জেলা বিএনপি সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ চৌধুরী, জেলা বিএনপি যুগ্ম সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হানিফ হাওলাদার।
অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, পৌর বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।



