নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না বরং তাকে ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলার’ মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী। তিনি দাবি করেছেন, তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (BSMMU) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে এমন ওষুধ দেওয়া হয়েছে যা তার শরীরে ‘স্লো পয়জন’ হিসেবে কাজ করেছে।
মেথোট্রেক্সেট ও ‘স্লো পয়জনিং’ তত্ত্ব
অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী জানান, খালেদা জিয়া রিউমাটয়েড আর্থরাইটিসে আক্রান্ত ছিলেন। এর চিকিৎসায় ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামক ওষুধ দেওয়া হয়। কিন্তু এই ওষুধ লিভারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি অভিযোগ করেন:
- লিভার ফাংশন ক্রমাগত খারাপ হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চিকিৎসকরা তাকে এই ওষুধটি দিয়ে গেছেন।
- ওষুধ চলাকালীন লিভারের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি পর্যন্ত করা হয়নি।
- তার ফ্যাটি লিভারকে লিভার সিরোসিসে ত্বরান্বিত করতে এই ওষুধটি ‘স্লো পয়জন’ হিসেবে কাজ করেছে।
তদন্তের জন্য ৩ দফা দাবি
শোকসভায় এফএম সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র আইনগতভাবে জব্দ করার পরামর্শ দেন এবং তিনটি বিষয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত দাবি করেন: ১. মেডিকেল বোর্ডের যোগ্যতা: কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তৎকালীন বোর্ড তাকে বিএসএমএমইউ-তে চিকিৎসার সুপারিশ করেছিল এবং তাদের ব্যর্থতার দায়ভার নির্ধারণ। ২. চিকিৎসকদের ভূমিকা: ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক যুক্ত ছিলেন এবং তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন কি না। ৩. ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বাধা: খালেদা জিয়া বারবার তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও কারা এবং কেন তাতে বাধা দিয়েছিল।
‘সুদূরপ্রসারী হত্যার পরিকল্পনা’
বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ আদালতকে দেওয়া তথ্যে খালেদা জিয়ার লিভারের সমস্যার কথা গোপন করেছিল বলে দাবি করেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তিনি বলেন, “দেড় বছরেও তার একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি না করা অমার্জনীয় অপরাধ। এটি তাকে হত্যার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
তিনি আরও যোগ করেন, যথাযথ কাউন্সেলিং করলে খালেদা জিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রাজি হতেন, কিন্তু তৎকালীন সরকারি চিকিৎসকরা সেই উদ্যোগ নেননি। ফলে তার লিভারের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করেন।



