নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ফজর নামাজ পড়ে জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করবেন।
সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রচারিত ১৮ মিনিটের এই ভাষণে তিনি দেশের তরুণ প্রজন্ম, নারী সমাজ এবং সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের জন্য এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার ভাষণে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আর এই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আমাদের হাতেই ইনশাআল্লাহ সবচেয়ে বেশি মানাবে, অন্য কারও হাতে নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের ভালোবাসা ও আল্লাহর ইচ্ছায় তারা বিজয়ী হলে বাংলাদেশ হবে একটি ইনসাফভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র।
নারীদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। প্রতিটি নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা আমাদের অগ্রাধিকার হবে।” তরুণদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে পাশে দাঁড়াতে।
দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবার। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাত করার চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করা হবে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কোনো উপভোগের বিষয় হিসেবে দেখেন না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব আমাদের কাছে আমানত, কোনো ব্যক্তিগত বিলাসিতা নয়।”
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে জনগণকে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার অনুরোধ জানান।



