এম এ কাহার সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য গুদামে (LSD) দিনব্যাপী এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে সরকারি মজুদের বিপুল পরিমাণ ধান ও চালের ঘাটতিসহ ভয়াবহ দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো: সাবদারুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তিনি জানান, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয় , ব্যবসায়ীদের সাথে সিন্ডিকেট করে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ। নতুন বস্তার টাকা আত্মসাৎ করে পুরাতন বস্তা ব্যবহার। গুদামের সংরক্ষিত খাদ্যশস্য গোপনে বাইরে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ।
৮টি গোডাউনে পরিচালিত এই তল্লাশিতে যে হিসাব পাওয়া গেছে তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর ৭ নম্বর গোডাউনে দাপ্তরিকভাবে ৭২১ মেট্রিক টন ধান থাকার কথা থাকলেও গণনার পর পাওয়া গেছে মাত্র ১৯০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, ৫২১ মেট্রিক টন ধানের কোনো হদিস মেলেনি। ৪টি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে মোট ১১৭৬ বস্তা (প্রায় ৩৫.৫ মেট্রিক টন) চাল কম পাওয়া গেছে। মজুত থাকা চালের একটি বড় অংশই পোকাধরা এবং পচে যাওয়ায় তা মানুষের খাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী বা বিষাক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) উপস্থিত ছিলেন। মজুত না থাকার বিষয়ে তারা মৌখিক দাবি করেন যে, অফিস আদেশের মাধ্যমে মিলারদের কাছে এসব ধান পাঠানো হয়েছে। তবে দুদক কর্মকর্তারা যখন এর সপক্ষে রেজিস্টার বা রেকর্ড বুক দেখতে চান, তখন গুদাম কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের দাপ্তরিক নথিপত্র বা প্রমাণ দেখাতে ব্যর্থ হয়।
সহকারী পরিচালক মো: সাবদারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সরকারি নথিপত্র ছাড়া এত বিশাল পরিমাণ খাদ্যশস্য সরিয়ে ফেলা এবং সাধারণ মানুষের জন্য রাখা চাল অখাদ্যে পরিণত করা একটি বড় অপরাধ। এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, তা বিস্তারিত তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।



