কামরুজ্জামান, লংগদু প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলায় মালিকানাহীন কুকুর নিধন বন্ধ এবং প্রাণঘাতী জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে এক ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী জনসচেতনতামূলক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের টিটাগাং পাড়া এলাকার একটি পাড়া কেন্দ্রে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বক্তারা ‘প্রাণিকল্যাণ আইন-২০১৯’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে এর কঠোর প্রয়োগের দাবি জানান। তারা উল্লেখ করেন, প্রচলিত আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো বেওয়ারিশ বা মালিকবিহীন প্রাণীকে হত্যা বা অপসারণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বক্তাদের মতে, কুকুর নিধন কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না; বরং এটি প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং এটি একটি অমানবিক প্রক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতামত উদ্ধৃত করে সভায় জানানো হয়, কুকুরের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বন্ধ্যাকরণ এবং জলাতঙ্ক নির্মূলে পরিকল্পিত টিকাদান কর্মসূচিই একমাত্র টেকসই ও বৈজ্ঞানিক সমাধান। যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণীর সাথে মানবিক সহাবস্থানের মাধ্যমেই পথকুকুরের উপদ্রব ও রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহাঙ্গীর হোসাইন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান সমন্বয়ক ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সৌরভ সেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন:
- মোঃ জাকারিয়া, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), লংগদু থানা।
- বিক্রম বলি চাকমা, চেয়ারম্যান, লংগদু ইউনিয়ন।
- অজয় মিত্র চাকমা, চেয়ারম্যান, আটারকছড়া ইউনিয়ন।
সভায় আলোচকরা গুরুত্বারোপ করেন যে, কুকুর নিধন বন্ধে কেবল সরকারি নির্দেশনা যথেষ্ট নয়, বরং সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। কোনো এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেলে আইন হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া জলাতঙ্ক রোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে বিদ্যমান অযথা ভীতি দূর করতে বিভিন্ন সতর্কতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
উক্ত সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাড়া প্রধান (কার্বারী), শিক্ষক, সংবাদকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সকলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কুকুরের গুরুত্ব এবং জলাতঙ্ক মুক্ত সমাজ গঠনে একাত্মতা প্রকাশ করেন।



