ফজলুর রহমান, ঢাকা | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট ও লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমদানিকারকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন (৯ মাস) পর্যন্ত বাকিতে বা ঋণে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগে এলপিজি আমদানিতে এই দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা ছিল না। তবে এলপিজি আমদানির পর তা বাল্ক আকারে মজুত করা, সিলিন্ডারজাতকরণ এবং বাজারজাত করতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকে এলপিজিকে বাণিজ্যিক ঋণের ক্ষেত্রে ‘শিল্পের কাঁচামাল’ হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বিধিমালা অনুযায়ী, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে সরবরাহকারী বা ক্রেতার ঋণের (Buyer’s Credit) মাধ্যমে ২৭০ দিন পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়। এখন এলপিজি আমদানিকারকরাও এই সুবিধা পাবেন।বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ সংগ্রহে আমদানিকারকদের সহায়তা করতে বলা হয়েছে। দ্রুত অর্থায়নের জন্য অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাজারে এলপিজির দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম কোথাও কোথাও ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে। আমদানিকারকরা এলসি (LC) খোলা এবং ডলার সংকটের কারণে সময়মতো গ্যাস আনতে না পারায় এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকরা দীর্ঘ সময় নিয়ে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন, যা বাজারে এলপিজির সরবরাহ বাড়াতে এবং দাম কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts