আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় দেওয়া এই ভাষণে তিনি দেশবাসীকে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের ‘যুগসন্ধিক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়, এটি একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। এই ভোট ১৭ বছরের নীরবতা ও ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে।”
ভাষণের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান: ড. ইউনূস বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, যারা গত ১৭ বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন, আজ তাদের সামনে সুযোগ এসেছে ব্যালটের মাধ্যমে নিজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনার একটি ভোট শুধু সরকার গঠন করবে না, এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করবে।”
২. জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট: নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে আয়োজিত গণভোটের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জানান, ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে এই সনদ তৈরি হয়েছে। জনগণের সম্মতির মাধ্যমেই এই সংস্কারগুলোর চূড়ান্ত বৈধতা নিশ্চিত করতে এই গণভোটের আয়োজন।
৩. নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি: সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রথমবারের মতো সারাদেশে ব্যাপক পরিসরে সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, ডগ স্কোয়াড এবং ভোট কর্মকর্তাদের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন তিনি। মোতায়েন করা হয়েছে রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী।
৪. গুজব ও অপপ্রচার রোধ: একটি চিহ্নিত মহল নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “নির্বাচিত সরকারের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে এই অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেবে। যারা ভাবছে আমরা ক্ষমতা ছাড়ব না, তারা ভুল ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
৫. প্রবাসীদের ভোটাধিকার: এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন—এটিকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।
৬. রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নির্দেশনা: নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখার এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর জন্য রাজনৈতিক দল ও কর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে প্রধান উপদেষ্টা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “দেশের চাবি আপনাদের হাতে। এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিজয়ী সরকারের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করে তারা দ্রুতই নিজ নিজ কাজে ফিরে যেতে পারবেন।



