গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সিলিন্ডারের ঝক্কি এড়াতে এখন শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই ইলেকট্রিক চুলার ব্যবহার বাড়ছে। বাজারে মূলত দুই ধরনের চুলা পাওয়া যায়: ইন্ডাকশন এবং ইনফ্রারেড। যদিও দেখতে দুটিই প্রায় একই রকম, কিন্তু এদের কাজ করার পদ্ধতি এবং সুবিধায় রয়েছে বিশাল পার্থক্য।
১. কাজের পদ্ধতি: প্রযুক্তি যখন আলাদা
- ইন্ডাকশন কুকার: এটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তি ব্যবহার করে। এটি সরাসরি রান্নার পাত্রকে গরম করে, চুলার উপরিভাগ গরম হয় না।
- ইনফ্রারেড কুকার: এটি অনেকটা কয়েলের চুলার মতো। তবে এতে ইনফ্রারেড রশ্মি বা হিটিং এলিমেন্ট ব্যবহার করা হয় যা চুলার উপরের গ্লাসকে গরম করে এবং সেই তাপ পাত্রে স্থানান্তরিত হয়।
২. পাত্রের ব্যবহার: যেখানে বড় পার্থক্য
- ইন্ডাকশন: এই চুলার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এতে সব ধরনের পাত্র ব্যবহার করা যায় না। শুধুমাত্র লোহা বা ম্যাগনেটিক স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র (যাতে চুম্বক লাগে) ব্যবহার করতে হয়।
- ইনফ্রারেড: এটি যেকোনো পাত্রের জন্য উপযোগী। আপনি সিলভার, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, এমনকি মাটির পাত্রেও রান্না করতে পারবেন।
৩. বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও গতি
- ইন্ডাকশন: এটি অত্যন্ত দ্রুত গরম হয় এবং প্রায় ৯০% তাপ সরাসরি পাত্রে যায়। ফলে বিদ্যুৎ বিল অনেক কম আসে।
- ইনফ্রারেড: এটি গরম হতে একটু সময় নেয় এবং তাপের কিছুটা অপচয় হয় (প্রায় ৬০-৭০% কার্যকর)। ফলে ইন্ডাকশনের তুলনায় এতে বিদ্যুৎ বিল কিছুটা বেশি আসতে পারে।
৪. নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
- ইন্ডাকশন: যেহেতু চুলার উপরিভাগ সরাসরি গরম হয় না, তাই হাত লেগে পুড়ে যাওয়ার ভয় কম। রান্না শেষে দ্রুত পরিষ্কার করা যায়।
- ইনফ্রারেড: রান্না শেষে চুলার উপরিভাগ অনেকক্ষণ গরম থাকে, যা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গরম অবস্থায় পানি বা ভেজা কাপড় দিলে গ্লাস ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কোনটি কিনবেন?
- ইন্ডাকশন কিনুন যদি: আপনার অগ্রাধিকার হয় দ্রুত রান্না এবং সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ বিল। তবে মনে রাখবেন, আপনাকে আলাদা করে ইন্ডাকশন উপযোগী পাত্র কিনতে হতে পারে।
- ইনফ্রারেড কিনুন যদি: আপনার কাছে আগের অনেক অ্যালুমিনিয়াম বা সিলভারের হাঁড়ি-পাতিল থাকে এবং আপনি বাড়তি পাত্র কেনার ঝামেলায় যেতে না চান।
দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয় এবং নিরাপত্তার কথা চিন্তা করলে ইন্ডাকশন কুকার সেরা পছন্দ। তবে পাত্রের স্বাধীনতার জন্য ইনফ্রারেড কুকারও মন্দ নয়।
ফজলুর রহমান, ঢাকা | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬



