ফজলুর রহমান ঢাকা | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

দীর্ঘ টানাপোড়েন আর দরকষাকষির পর অবশেষে ভেঙে গেল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ইসলামি জোট। জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিচ্ছেদের ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

জোট সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং একাধিক নেতার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ভাঙনের মূলে রয়েছে আসন্ন নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে চরম মতবিরোধ।

ইসলামী আন্দোলন কমপক্ষে ৮০টি আসন দাবি করেছিল। দলটির দাবি ছিল, অন্তত ১৪৩টি আসনে তাদের শক্ত জনভিত্তি ও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।তবে প্রথমে ৪০টি এবং পরে সর্বোচ্চ ৪৫টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেয় জামায়াত। এছাড়া আরও ৬-৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়। তবে ৮০ আসনের দাবিতে অনড় থাকে চরমোনাই পীরের দল।

জোটে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ বা এনসিপি-র অন্তর্ভুক্তি ইসলামী আন্দোলন সহজভাবে নেয়নি। এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের জন্য নির্ধারিত কিছু আসন দাবি করে বসে ইসলামী আন্দোলন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিসের (একাংশ) আমির মাওলানা মামুনুল হক গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক ও মধ্যস্থতার চেষ্টা চালান। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত তিনি চরমোনাই পীরের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে আসন সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তিনি বিষয়টি জামায়াত নেতাদের অবহিত করেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে না থাকলেও বাকি শরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ১১ দলীয় জোট এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৬৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা এখন নিজেদের প্রতীক ‘হাতপাখা’ নিয়ে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর গতকাল স্থগিত হওয়া সেই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, বড় শরিক চলে গেলেও জোটের ঐক্য অটুট আছে এবং নতুন করে আসন বিন্যাসের কাজ চলছে। তবে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এই ভাঙন ইসলামি দলগুলোর ভোট ব্যাংকে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts