আন্তর্জাতিক ডেস্ক | কায়রো
সুদান সংকটে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সতর্ক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে এবার সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে মিশর। গত ৯ জানুয়ারি (২০২৬) মিশরীয় বিমানবাহিনী (EAF) সুদানের বিদ্রোহী গোষ্ঠী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF)-এর একটি সামরিক বহর লক্ষ্য করে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, লিবিয়া সীমান্ত হয়ে আরএসএফ বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র ও রসদ নিয়ে যাওয়ার পথে একটি বড় সামরিক বহর শনাক্ত করে মিশরীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এরপরই মিশরীয় বিমানবাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুরো বহরটি ধ্বংস করে দেয়। সুদানের গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের দমনে মিশরের এমন প্রত্যক্ষ সামরিক পদক্ষেপ এই প্রথম।
এই হামলাটি এমন এক সময়ে চালানো হলো, যার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পরেই সুদানের লিবিয়া-সমর্থিত সামরিক নেতা সাদ্দাম হাফতারের কায়রো সফরের কথা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাফতারের সফরের ঠিক আগে এই হামলার মাধ্যমে মিশর একটি কড়া বার্তা দিয়েছে।
মিশরীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই অভিযান প্রমাণ করে যে কায়রো সুদানের বর্তমান সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর (SAF) পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। মিশর মনে করে, আরএসএফ-এর মতো বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্থান কেবল সুদানের জন্য নয়, বরং মিশরের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
লিবিয়ার একটি পক্ষ যখন আরএসএফ-কে সমর্থন দিচ্ছে, তখন মিশরের এই সরাসরি হামলা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই অভিযানের ফলে সুদানের গৃহযুদ্ধ এখন আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিল।



